স্বাস্থ্য

শিশুর বমির কারণ ও করণীয়

শিশুরা বিভিন্ন কারণে বমি করতে পারে। বয়সভেদে এর কারণও ভিন্ন হয়। কখনও এটি সাধারণ সমস্যা হলেও, অনেক সময় এটি গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। তাই কারণ জানা এবং দ্রুত সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া খুবই জরুরি।


বয়সভেদে শিশুর বমির কারণ

নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রে

জন্মের পরপরই যদি নবজাতক বমি শুরু করে, তাহলে খাদ্যনালিতে জন্মগত কোনো ত্রুটি আছে কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে।

জন্মের ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পর যদি-

  • বারবার বমি হয়
  • বমির আগে পেটের ওপরের দিকে চাকা দেখা যায়
  • বমির রং সবুজ না হয়
  • বমির পর আবার দ্রুত ক্ষুধা লাগে

তাহলে এটি পাইলোরিক স্টেনোসিস (Pyloric Stenosis) বা খাদ্যনালির জন্মগত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

দুধ খাওয়ানোর পরপরই বমি হলে খাওয়ানোর পদ্ধতিতে ভুল আছে কিনা তা দেখতে হবে।


৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশু

এই বয়সে সাধারণত নিচের কারণে বমি হয়ঃ

  • রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া
  • তীব্র জ্বর
  • শ্বাসনালির সংক্রমণ
  • কাশির সঙ্গে বমি
  • পেট ফাঁপা বা গ্যাস
  • পেটব্যথার সঙ্গে বমি ভাব

অনেক সময় প্রথমে বমি শুরু হয়, পরে পাতলা পায়খানা দেখা দেয়।


বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে

বড় শিশুদের বমির কারণ হতে পারেঃ

  • প্রস্রাবে ইনফেকশন
  • গলায় ইনফেকশন
  • ঠান্ডা-কাশি
  • শ্বাসকষ্ট
  • মাইগ্রেন
  • সাইনাসের ব্যথা
  • ব্রেইনে ইনফেকশন
  • পেটে কৃমি
  • জন্ডিস
  • বদহজম
  • খাদ্যে বিষক্রিয়া
  • অ্যালার্জি

বমি হলে করণীয়

প্রথম ধাপ

যদি অনবরত বমি হয়, তাহলে-

  • শিশুকে বাঁ কাতে শোয়ান
    অথবা
  • উপুড় করে রাখুন

এতে বমি শ্বাসনালীতে ঢোকার ঝুঁকি কমে।

পরিষ্কার করার পর শিশুকে সোজা করে শোয়ান।


খাবার ও তরল দেওয়ার নিয়ম

  • খাবার দেওয়ার ১৫–২০ মিনিট আগে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বমির ওষুধ দিন
  • এরপর প্রতি ১৫ মিনিট পরপর ১ চামচ করে পানি দিন
  • ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা পর অল্প করে জাউভাত দিন
  • পাশাপাশি স্যালাইন খাওয়ান

বড় শিশুদের জন্য

বড় বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দিতে পারেনঃ

  • ডাবের পানি
  • স্প্রাইট
  • সেভেনআপ (গ্যাস বের করে)
  • ইলেকট্রোলাইট ড্রিঙ্ক

প্রতি ১৫ মিনিট পরপর অল্প অল্প করে খেতে দিন।


ধীরে ধীরে খাবার শুরু করুন

যদি বমি বন্ধ হয়, তাহলে দিতে পারেনঃ

  • জাউ
  • স্যুপ
  • শরবত
  • পানি
  • তরল খাবার
  • কাঁচকলার জাউ
  • মুরগির মাংস

অল্প অল্প করে শুরু করতে হবে।


কখন দ্রুত হাসপাতালে যাবেন?

যদি-

  • বমি বন্ধ না হয়
  • প্রস্রাব কমে যায়
  • শিশু খুব দুর্বল হয়ে পড়ে
  • জ্বর বেড়ে যায়
  • শ্বাসকষ্ট হয়
  • শিশু কিছুই খেতে না পারে

তাহলে দ্রুত কাছাকাছি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।


শেষ কথা

শিশুর বমি সবসময় সাধারণ বিষয় নয়। কখনও এটি বড় সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত কারণ বুঝে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Back to top button